• Call: 01796680866, 01716948814
  • Email: mogholbogura@gmail.com
নতুন বইয়ের আনন্দে মেতেছে বস্তির শিশুরা
নতুন বইয়ের আনন্দে মেতেছে বস্তির শিশুরা


এদের জীবন আর সবার মত নয়। সোনার চামচ মুখে জন্ম হয়নি এদের। ট্রেনের হুইসেলে ঘুম ভাঙে প্রতিদিন ভোরে। এরপর শুরু জীবন সংগ্রাম। আপনার-আমার সন্তান যখন সেজেগুজে স্কুলে যায় মা-বাবার হাত ধরে, ঠিক তখন বস্তির শিশুরা মায়ের সাথে রাস্তায় কাগজ কুড়াতে ব্যস্ত। কখনো রাস্তার পাশে পড়ে থাকা কাগজের টুকরো আবার কখনো ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া ময়লার স্তুপ ঘেঁটে কিছু একটা পাওয়ার আশায় ঘাম ঝরায় এই শিশুরা। এভাবেই ভোর থেকে সন্ধ্যা চলতে থাকে বিরামহীন জীবন সংগ্রাম।


শনিবার বিকেলে পথের দিশা ভাসমান স্কুলের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ করা হয়। পথের দিশা ভাসমান স্কুল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন। এসময় স্কুলের পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক সাংবাদিক মোস্তফা মোঘল ও সহকারি শিক্ষক রোকসানা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। বস্তির ফুটফুটে ছোট্র সোনামণিরা নতুন বই পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে। খুশির রেখা ফুটে ওঠে ওদের মায়েদের চেহারায়। দিনরাত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখের বস্তির সুবিধা বঞ্চিত মায়েরাও।


উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে বহুল পরিচিত বগুড়া শহরের বিভিন্ন বস্তিতে এরকম সুবিধা বঞ্চিত শিশুর সংখ্যা আসলে কত সেটা বলা মুশকিল। এদের নিয়ে কেউ কখনো সিরিয়াস ভাবে চিন্তা করেনি বলেই হয়ত এদের সংখ্যা নিরূপণের উদ্যোগও নেয়নি কেউ। তবে, আনুমানিক দুই হাজারের অধিক সুবিধা বঞ্চিত শিশু রয়েছে এই শহরে।

এসব শিশুকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে ঘিরে বগুড়ায় একটি সংগঠনের জন্ম হয়। সাংবাদিক মোস্তফা মোঘল বন্ধুদের সাথে নিয়ে “ফেসবুক ফ্রেন্ডস্ সোসাইটি বগুড়া” নামের এই সংগঠন গড়ে তোলেন। তরুণ চিকিৎসক ডাঃ আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে সংগঠনটি অল্পদিনের ব্যবধানে সামাজিক কর্মকান্ডে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে। ২০১৬ সালে ফেসবুক ফ্রেন্ডস্ সোসাইটি বগুড়া’র তৎকালীন সমাজকল্যাণ সম্পাদক ডা: ইমরান রাশেদের নেতৃত্বে “পথের দিশা ভাসমান স্কুল” নামে বস্তির সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য শহরের চেলাপাড়ায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। ফেসবুক ফ্রেন্ডস্ সোসাইটি বগুড়া’র সার্বিক তত্বাবধানে পরিচালিত স্কুলটি পরবর্তীতে বগুড়া রেল স্টেশন বস্তিতে স্থানান্তর করা হয়।


পথের দিশা ভাসমান স্কুলে বর্তমানে শিশু শ্রেণি হতে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৪০ জন সুবিধা বঞ্চিত শিশুশিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। স্কুলের পক্ষ থেকে তাদের বই-খাতা-কলমসহ যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ ফ্রি দেয়া হয়। শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস শেষে হাল্কা খাবার দেয়া হয়। পাশাপাশি শীতবস্ত্র, স্কুলড্রেস, ঈদে নতুন পোষাক, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে খেলাধুলার আয়োজন, বার্ষিক শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আর্থিক সহযোগিতায় স্কুলটি পরিচালিত হচ্ছে।